statcounter

Thursday, July 7, 2016

সময়

দুদিন বসে ইতিহাসের স্বপ্নভঙ্গ পড়ে শেষ করতে পারলাম। ১১৩ পাতার ট্রাভেলগ। জার্মানী, হাঙ্গেরি, রুমানিয়া, পোল্যান্ড আর রাশিয়া ঘুরে লেখা।  লেখক যখন গেছেন এই দেশগুলোতে তখন ইউরোপ জুড়ে চলছে রাজনৈতিক পালাবদল। হয়েছে সমাজতন্ত্রের পতন, বার্লিন ওয়াল ভেঙ্গে দুই জার্মানী মিলেছে, রুমানিয়াতে সেসেস্কু উৎখাত, পোল্যান্ডে এসেছে নুতন সরকার, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন  হয়ে গেছে ভেঙ্গে টুকরো  টুকরো। সেই নিয়েই লেখা ভ্রমণকাহিনী।  অনেকদিন পরে টানা একটা বই পড়ে শেষ হল। অভাবটা সময়ের ছিলনা; ছিল ধৈর্যের। এই বইটার শুরুর দিকে পড়ছি কিন্তু বুঝছিনা দশা হয়েছিল। ট্রাভেলগ কিছু জটিল ব্যাপার নয়; তাও হচ্ছিল। বার বার ফিরে যেতে হচ্ছিল আগের পাতায়। মনোযোগের অভাব এবং স্মৃতিশক্তির দোষ। শেষে বইয়ের ৮০ পাতায় পৌঁছে মাথার মধ্যে যেন এলো জ্বলে উঠল। এতক্ষ্ণ যা যা পড়ছিলাম তা তো বটেই , তিন বছর আগে পড়া কেন ফলেটের " দ্য সেন্চুরী ট্রিলজী " (এর বই এর কন্টেন্টের সঙ্গে মিল আছে) সেগুলোও মনে পড়তে শুরু হল। তখন বুঝলাম সমস্যা আসলে মনোযোগের নয়, সময়ের। একটা বই পড়ে তার আত্তীকরণ হবার জন্য মিনিমাম একটা টাইম দিতে হয়,  এতোক্ষ্ণ কাউন্টডাউন চলছিল, ৮০ পাতায় পৌঁছে ঘন্টা বেজেছে। ইঞ্জিন গরম হয়েছে; যা যা ইনফরমেশন জমা হয়েছিল তাদের প্রসেসিং হয়ে গেছে, বাকি নতুন ইনফোদের ওয়েটিং টাইম কম, তারা হুড়মুড় করে প্রসেস হচ্ছে।

জীবনের বাকি জিনিসগুলোও এরকমই। পরীক্ষার প্রস্তুতি থেকে রান্নাবাটি শেখা, ল্যাবের প্রজেক্ট, থেকে নতুন সম্পর্ক এরকম আরো পাঁচশ হাজারখানা বিষয় সব কিছুই একটা মিনিমাম সময় দাবী করে। তার আগে তারা মোটেই ওয়ার্কিং কন্ডিশনে রিচ করেনা। বিশেষত সদ্যোজাত অবস্থায় রাতারাতি কাজ করা সম্পর্ককে আমি সাঙ্ঘাতিক সন্দেহের চোখে দেখি। আমার সিনিকাল মনে এই ভাবনাই আসে যে নিশ্চয় কিছু ইনফরমেশন মিস হচ্ছে, পুরো ছবিটা স্পষ্ট নয় তাই এতো ফ্ল-লেস দেখাচ্ছে। 

এই সময় জিনিসটাই খুব মজার। এই গুচ্ছ গুচ্ছ প্যাকেট ভরতি ছিল-- আবার পরের মুহূর্তেই প্যাকেট ফাঁকা। সেই ভরতি আর ফাঁকার মাঝের ফোকরে যেটুকু জমা থাকে সেটাকে ইউস করে নেওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। যে যত বেশি করতে পারবে তার তত লাভ। তবে আমার মত লেট লতিফদের কথা আলাদা---তাদের কাছে সময়ের দাম এত বেশি যে কিপটের মতন আস্তে আস্তে খরচ করতে গিয়ে শেষে দেখা যায় প্যাকেট শূন্য, হাতে পেন্সিল।

তবে যেরকম উধাও হয়ে যাওয়াটা সময়ের ধর্ম, সেরকম ফাঁক ভরানোটাও তারই কাজ। যেসব পরিবর্তন অযোগ্য অবস্থা দেখে এখন মুখ বেঁকিয়ে, ঠোট ফুলিয়ে বলছি ভালো না, বিচ্ছিরি, সময়ের কাজ হচ্ছে তাকে চলনসই করে দেওয়া। সইয়ে নেওয়া। ভুলিয়ে দেওয়া।আর সেগুলো সর্বদা সময় সাপেক্ষ।

তাই দুনিয়া লেটুরা এক হন। আস্তে আস্তে কাজ করা নিয়ে লজ্জা পাবেন। রেসটা তো কচ্ছপবাবুই জিতেছিলেন। আর সময় খুব দামী; তাই দৌড়াতে গিয়ে ফেলে ছড়িয়ে নষ্ট করবেন না। আরামে থাকবেন, মনে রাখবেন সময়ের শেয়ার মার্কেটে ইনফ্ল্যেশন নেই।








3 comments:

  1. sala sala...anobodyo vai..chilis kothea??..ei lekhata amar mto alsi manusher janna bed,quran re..mone cofi pelam..ha ha thik ii to..ektu aste aste colai valo jibon boro dami..koto aste seta k thik korbe!!!!aj ta khuub imp amr kache..samae gorie chaluk nijer niome..destiny has its own plan..jkhane nie jabe jabo..r tr vasathei tui cornetto kha..samaer kache amr chirodiner angikar..valo achi..valo thakbo..ashe pashe..ekktu dure jara ache tader matha jotota khete pari..daitto nie khabo..kono mai ka lal nei nei j amk kharap rakhbr..amr remote cntrol amr hate...

    ReplyDelete
  2. Goodreads linktao share de songe.

    ReplyDelete